উঁচু জুতা পরার পর

একটা সময়ে মডেলরা শুধু উঁচু জুতা পরতেন। সে ধারায় বদল এসেছে। আজকাল অনেক মেয়েই উঁচু জুতা বা হাই হিল পরেন। কারও কারও কাছে এটা হাল ফ্যাশনের অনুষঙ্গও বটে। চিকিৎসাবিদ্যায় একটা কথা অনেকে বলেন, হাই হিলে হাই রিস্ক। উঁচু জুতা পরে হাঁটাচলার সময় পায়ের পাতা, গোড়ালি, হাঁটু, এমনকি কোমরের ওপরও প্রভাব পড়ে। মেরুদণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে থাকে। কোমরব্যথা হতে পারে। এ ধরনের উঁচু জুতা পরলে পায়ের ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। পায়ের পাতায় প্রদাহ, এমনকি পায়ের হাড় ভেঙে যেতে পারে।

এ বিষয়ে জাতীয় পঙ্গু ও পুনর্বাসন হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক কাজী শামিমুজ্জামান বলেন, এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় অল্প বয়সী রোগী গোড়ালি বা হাঁটুর ব্যথা নিয়ে আসেন। খোঁজ নিলেই দেখা যায়, তাঁরা উঁচু জুতা পরতে ভালোবাসেন। বেশি উঁচু হিল পরলে গোড়ালি উঁচু হয়ে থাকে। একটু এদিক-সেদিক হলেই পা মচকে যাওয়ার আশঙ্কা। পায়ের সামনের দিকে চাপ দিয়ে হাঁটার ফলে হাঁটুতে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। ফলে হতে পারে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো রোগ।

উঁচু জুতা পরে হাঁটার সময় ভারসাম্য রক্ষার জন্য শরীর যে ভঙ্গিতে থাকে, তা-ও স্বাস্থ্যকর নয়। আবার হাঁটার সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই খুব উঁচু জুতা না পরাই ভালো। পরলেও টানা বেশি সময়ের জন্য নয় এবং অতিরিক্ত উচ্চতার হিল নয়। উঁচু জুতা পরার আগে ও পরে খানিকটা সময়ের জন্য পায়ের পেশি স্ট্রেচ এবং রিলাক্সেশন করে নিতে পারেন। প্রতিদিন বা সব সময় উঁচু জুতা পরা যাবে না।

হাই হিল পরার সাধারণত ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পায়ে ব্যথা শুরু হয়। তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশই সঠিক মাপের হিল না পরার জন্য পায়ের ব্যথায় ভোগেন। দীর্ঘদিন হিল পরার কারণে নার্ভে বা স্নায়ুতে ব্যথা হতে পারে। পায়ের হাড় ভেঙে যেতে পারে। হাঁটুতে ও কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে হিল যত বেশি উঁচু হয়, শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তত বেশি হয়ে থাকে।

কেমন জুতা পরবেন
এককথায় গোড়ালি, হাঁটু ও কোমর ঠিক রাখতে কম হিলের জুতা সব থেকে ভালো। হিল পরার ইচ্ছা হতেই পারে, তবে তার জন্য একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেখানে অল্প হাঁটতে হবে বা অল্পক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, সেখানে উঁচু হিল পরা যেতে পারে।

যে জুতা পরে হাঁটলে কোনো অস্বস্তি হয় না, সে রকম জুতা বেছে নিন। পায়ের মাপের চেয়ে বড় বা ছোট জুতা—কোনোটিই ভালো নয়। পায়ের সবচেয়ে বড় আঙুলটার চেয়ে আধা ইঞ্চি সামনে বের হয়ে থাকা জুতা পরুন। জুতা পরার পর পায়ের আঙুলগুলো যেন আঁটসাঁট হয়ে না থাকে। যে জুতার সামনের দিকটায় আঙুল নাড়ানোর মতো যথেষ্ট জায়গা রয়েছে, তেমন জুতা পরুন, খুব শক্ত জুতা পরিহার করুন। জুতার ভেতরের অংশটা আরামদায়ক হওয়া ভালো। আবার যে জুতা পরলে সহজেই পিছলে যেতে পারেন, তেমন জুতা পরবেন না। জুতা সঠিকভাবে পায়ে না লাগলে পায়ে ফোসকা পড়তে পারে, পায়ের তলার কিছু অংশ শক্ত হয়ে কড়া বা ক্যালাস হতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে উঁচু হিলের জুতা পরার অভ্যাস থাকলে তা বদলে ফেলুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Personel Sağlık

- seo -

istanbul avukat