গুণে ভরা কাঠবাদাম

ত্বকের যত্নে এবং শরীরে পুষ্টিতে কাঠবাদাম উপকারী। মডেল: নৈরিতা, কৃতজ্ঞতা: হারমনি স্পা, ছবি: কবির হোসেন

ত্বকের যত্নে এবং শরীরে পুষ্টিতে কাঠবাদাম উপকারী। মডেল: নৈরিতা, কৃতজ্ঞতা: হারমনি স্পা, ছবি: কবির হোসেনকাঠবাদাম খেলেই যে শুধু উপকার মিলবে এমন নয়, ত্বকের যত্নেও এটি এক অসাধারণ উপাদান। কাঠবাদামে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ফলিক অ্যাসিড। তা ছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ডি–অক্সিডাইজ (অক্সিজেন কমে যাওয়া) হওয়া থেকে রক্ষা করে। রূপচর্চায় কাঠবাদামের ব্যবহার ত্বকে ভাঁজ পড়া কমিয়ে দেয়, কালো দাগ দূর করে, রোদে পোড়া ভাব দূর করে। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য খুবই ভালো খাবার কাঠবাদাম।

আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা জানালেন, কাঠবাদামের ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ব্ল্যাকহেডস ও ব্রণ দূর করে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে তাঁদের ত্বক আরও তৈলাক্ত হয়ে পড়ে, বাদাম তেল তাঁদের জন্য উপকারী।

ত্বকে কাঠবাদাম তেল মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বক সুস্থ থাকে।

কাঠবাদামে আছে ভিটামিন ‘ডি’। এই তেলের মালিশ শিশুদের জন্যও উপকারী।

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে কাঠবাদাম তেল। রাতে ঘুমানোর সময় চোখের পাতায় ও নিচে দিয়ে ঘুমালে দাগ চলে যায়। চোখের নিচের চামড়ার বলিরেখা, চোখ ফোলা ভাবও কমায়।

ত্বকের যত্নে এবং শরীরে পুষ্টিতে কাঠবাদাম উপকারী। মডেল: নৈরিতা, কৃতজ্ঞতা: হারমনি স্পা, ছবি: কবির হোসেন

কাঠবাদামের তেল তৈরি করার জন্য প্রথমে আধা লিটার নারকেল তেল নিতে হবে। ১০০ গ্রাম কাঠবাদাম ভিজিয়ে তা মিহি করে বেটে নিন। এখন এই বাদাম পেস্ট নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে খুবই হালকা তাপে ধীরে ধীরে জ্বাল দিতে হবে। এই সময়ে খেয়াল রাখতে হবে মিশ্রণটির পানি শুকিয়ে যাচ্ছে কি না, অর্থাৎ বাদামের মধ্যে থাকা পানি যখন শুকিয়ে তেলের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যাবে, তখনই বুঝতে হবে কাঠবাদামের তেল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। এরপর ঠান্ডা করে একটি বোতলে ভরে সংরক্ষণ করুন।ত্বকের যত্নে এবং শরীরে পুষ্টিতে কাঠবাদাম উপকারী। মডেল: নৈরিতা, কৃতজ্ঞতা: হারমনি স্পা, ছবি: কবির হোসেনকাঠবাদাম খেতেও পারেন নানাভাবে। সাধারণত বাদাম খালি পেটেই খাওয়া ভালো। সকালে বা বিকেলে বাদামের গুণাগুণ বেশি পাওয়া যায়। ভিজিয়ে খেতে পারেন বা না ভিজিয়েও। দিনে চার থেকে ছয়টি বাদামের বেশি খাওয়া যাবে না।

মাংসের সঙ্গে বাদামবাটা দিলে যেমন খাবারের স্বাদ বাড়ে, তেমনি বাদামবাটা দিয়ে রান্না করলে তেলও লাগে না। বাদামের তেল শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এতে কোনো ধরনের কোলেস্টরেল থাকে না, তাই হৃদ্‌রোগীদের জন্য বাতামের তেল উপকারী।

অন্যদিকে যাঁরা গরুর দুধ খেতে পারেন না, তাঁরা কাঠবাদামের দুধ খেতে পারেন। তবে বাদামদুধ তৈরি করার আছে নির্দিষ্ট নিয়ম। প্রথমে দুই ঘণ্টা বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ব্লেন্ডারে পানির সঙ্গে ব্লেন্ড করে ছাঁকনিতে ছেঁকে নিলেই হয়ে যাবে বাদামদুধ। এই দুধ শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এমনকি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও চোখের জন্যও দারুণ কাজ করে কাঠবাদাম।

সংরক্ষণ যেভাবে

অনেকেই বেশি করে বাদাম কিনে বাড়িতে সংরক্ষণ করেন, কিন্তু কিছুদিন পর বাদামের সেই স্বাদ আর পান না। আবার অনেক সময়ে বাদাম শুকিয়েও যায়।

তাই দীর্ঘদিন বাদাম ভালো রাখতে ফ্রিজে রেখে দিন। এতে কাঠবাদামের পুষ্টিগুণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *