চেয়ারম্যানের বাড়িতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ

মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারের একটি বাসা থেকে এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

গৃহকর্মীর নাম রচনা খাতুন (১৪)। রচনা সদর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। রচনার পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাশ উদ্ধার হয়েছে আড়পাড়া সদর উপজেলার মঘী ইউপির চেয়ারম্যান হাসনাহেনার বাড়ি থেকে। চেয়ারম্যানের দাবি, রচনা আত্মহত্যা করেছে।

রচনার বাবা বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, প্রায় সাত বছর ধরে রচনা ওই বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে। শনিবার সকালে চেয়ারম্যান হাসনাহেনা তাঁকে মুঠোফোনে জানান, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে পরিবারের লোকজন গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রচনার মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘উরা আমার মেয়েরে মারে ঝুলই থুইছে। না হলি দরজা বন্ধ অবস্থায় উনি (চেয়ারম্যান) ক্যাম্মা বুঝল রচনা মরে গেছে? তার ফোন করার এক ঘণ্টা পর আমার লোকজন দরজা ভাঙে রচনার লাশ নামালো।’ তিনি বলেন, যে ফ্যানের সঙ্গে রচনা ঝুলে ছিল, সেটার নিচে থাকা খাটের দূরত্ব কম। রচনা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকলেও তার একটি পা খাটের ওপর ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল। ওই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে কোনোভাবেই আত্মহত্যা করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান হাসনাহেনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। ও কেন বা কীভাবে মারা গেল কিছুই জানি না।’ তবে রচনার বাবার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাহেনা বেগম বলেন, সকালে রচনা যখন দরজা খুলছিল না, তখন পাশের বাসার এক নারীকে ঘরের ফাঁক দিয়ে দেখতে বলা হয়। ওই নারী রচনাকে ঝুলে থাকতে দেখেন। তারপর রচনার বাবাকে খবর দেন হেনা।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শালিখা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না ও একটি গামছায় প্যাঁচানো অবস্থায় মেয়েটিকে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। তার বাম পা ভাঁজ হয়ে খাটের ওপর ও ডান পা খাটের বাইরে ঝুলে ছিল। মৃত রচনার গলায় দাগ ও নাক-মুখ দিয়ে লালা বেরোতে দেখা গেছে। তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *