টরন্টোয় পেন্সিলের জন্মোৎসব

অনুষ্ঠানে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় আসাদ চৌধুরী ও শামসুল হুদাকে। উত্তরীয় পরিয়ে দেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ্

অনুষ্ঠানে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় আসাদ চৌধুরী ও শামসুল হুদাকে। উত্তরীয় পরিয়ে দেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ্শুরু হয়ে গেল পেন্সিলের জন্মোৎসব। গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) কানাডা থেকে শুরু হলো এর সূচনা। পেন্সিল কানাডার এবারের আয়োজনটুকু ছিল একেবারেই ঘরোয়া। ঠিক যেমন করে ঘরের কারও জন্মদিনে আমরা কেক কাটি, খাইদাই, আড্ডা দিই, তা সবই ছিল আমাদের সেদিনের আয়োজনে।

পেন্সিল ফেসবুকভিত্তিক সৃজনশীল একটি গ্রুপ, যার জন্ম ২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। একদল স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর দেখা ইচ্ছে-স্বপ্ন আজ প্রতিটি পেন্সিলরের চোখে। পেন্সিলের প্রতিজন সদস্য ‘পেন্সিলর’ হিসেবে পরিচিত বিশ্বজুড়ে। একটি অনলাইনভিত্তিক গ্রুপের এত শক্তি, এত ভালোবাসা যে আজ পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় পেন্সিলরের জন্ম দিচ্ছে।

পেন্সিল আমাদের প্রত্যেকের কাছে ভালোবাসার একটি নাম। এই এক গ্রুপে মিলেমিশে আছেন লেখক, কবি, চিত্রশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, আলোকচিত্রী, গায়ক-গায়িকাসহ আরও অনেক সৃষ্টিশীল মানুষ। প্রযুক্তিবিদ্যা কত সহজে এত এত মানুষকে নিয়ে এসেছে এক ছাদের নিচে।

পেন্সিলের জন্মোৎসবের একটি দৃশ্য

পেন্সিলের জন্মোৎসবের একটি দৃশ্যফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ পেন্সিল এখন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার সদস্যের পরিবার। অনলাইন থেকে শুরু করে এখন বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ সংস্থার অনুমোদন নিয়ে পেন্সিল ফাউন্ডেশন নামে অফলাইনেও কাজ শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পেন্সিলের সদস্যরা এখন দেশভিত্তিক পেন্সিলর হিসেবে অনলাইন থেকে অফলাইনে নানাবিধ উদ্যোগ হাতে নিচ্ছে। ছোট ছোট আড্ডা থেকে আয়োজন হয়েছে বর্ষপূর্তি, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। সামনে থাকছে আরও নানাবিধ উদ্যোগ।

সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে, ভিন্ন ভিন্ন আমেজে চলবে পেন্সিলের বর্ষপূর্তি উৎসব। এই এক মাস পেন্সিলকে ঘিরে চলবে ভালোবাসার তাণ্ডব। তাই এর শুরুতে পেন্সিল কানাডার পক্ষ থেকে ছিল দারুণ কিছু চমক। পুরো আয়োজনকে আরও মহিমান্বিত করতে, পেন্সিলকে শুভকামনা জানাতে আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কবি শ্রদ্ধেয় আসাদ চৌধুরী। আরও ছিলেন ভাষাসৈনিক শ্রদ্ধেয় শামসুল হুদা। এই শুভক্ষণে পেন্সিল কানাডা পরিবার আজ সত্যিই ভীষণভাবে গর্বিত হয়েছিল এমন দুই গুণী ব্যক্তিকে কাছে পেয়ে। এ ছাড়া আমাদের মাঝে ছিলেন সবার প্রিয়, সবার খুব চেনা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আসমা আহমেদ, যিনি নিজেকে একজন পেন্সিলর পরিচয় দিয়ে গর্বিত করেছেন আমাদের।

পেন্সিলের জন্মোৎসবের একটি দৃশ্য

পেন্সিলের জন্মোৎসবের একটি দৃশ্যঅনুষ্ঠানের শুরুতে ফুলের তোড়া আর উত্তরীয় দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় আসাদ চৌধুরী ও শামসুল হুদাকে। উত্তরীয় পরিয়ে দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। এরপর কবির হাতে পেন্সিলের জন্মদিবস উপলক্ষে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ভাষাসৈনিক শামসুল হুদা। পুরো পর্বটি সঞ্চালনা করেন আসমা আহমেদ। শ্রদ্ধেয় কবি ও ভাষাসৈনিক, দুজনের মূল্যবান বক্তব্যের পর ছিল কবির নিজের একটি আবৃত্তি। সত্যি, দারুণ ছিল সেই মুহূর্তগুলো।

পেন্সিলের জন্মোৎসবের একটি দৃশ্য

পেন্সিলের জন্মোৎসবের একটি দৃশ্যছোট্ট ঋদ্ধি আর সুহায়লা আরিয়ার আবৃত্তি ছিল মুগ্ধ করার মতো। গান, দেশের গান আর হারানো দিনের আধুনিক গান শুনিয়ে আনমনা করে দিয়েছিলেন মুক্তিদি। এ ছাড়া আবৃত্তি করেন মেহরাব রহমান। আরও ছিল কেক কাটা, ছোট ছোট আড্ডা, গল্প আর খাওয়াদাওয়া। ছিল পেন্সিলের লেখকদের লেখা পেন্সিল প্রকাশনীর বুক কর্নার। ছিল কানাডা পেন্সিলরদের উদ্যোগে নিজেদের তৈরি খাবারের কর্নার, যা থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ যাবে রাজশাহীর প্রত্যন্ত এলাকার কিছু ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার জন্য, বই ও খাতাপত্র ক্রয়ে।

অনুষ্ঠানে টরন্টো ছাড়াও মিসিসাগা ও হ্যামিলটন থেকেও উপস্থিত ছিলেন অনেক পেন্সিলর। শুধুই পেন্সিলকে ভালোবাসার টানে। এই আনন্দ আয়োজনে, আনন্দ ভাগাভাগি করতে উপস্থিত ছিলেন টরন্টোর অনেকেই। এসেছিলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক প্রিয়মুখ। সবাইকে নিয়ে আমরা খুব সুন্দর এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু করে দিলাম এবারের পেন্সিল বর্ষপূর্তি।

পেন্সিলের জন্মোৎসবের একটি দৃশ্য

পেন্সিলের জন্মোৎসবের একটি দৃশ্যপেন্সিল কানাডার এই আয়োজনের পেছনে কয়েকজন বিগত কয়েক দিন থেকে অক্লান্ত খেটে অনুষ্ঠানটিকে দাঁড় করিয়েছেন। তৌহিদা হানফি মাহমুদ, হোসনে আরা জেমী ও তৌহিদুল ওয়াহিদ, আপনাদের কাছে পেন্সিল কানাডা কৃতজ্ঞ। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে চাই ছবিয়াল বিদ্যুৎ সরকার, মৌ মধুবন্তী, প্রতিমা সরকার, রিজভী, ফেরদৌস, জামিল বিন খলিলকে, যারা সার্বিকভাবে সাহায্য করেছেন তাদের মূল্যবান সময় দিয়ে। ধন্যবাদ দিতে চাই আসমা আপা, জেমী আপা, মুক্তি দি, তৌহিদা আপু, তৌহিদ ভাই ও সোমাকে, যারা খাবার এনে ফান্ড রাইজিং কার্যক্রমটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শেষে ধন্যবাদ সব পেন্সিলরকে, যারা এসেছেন, আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন ও ফান্ড রাইজিংয়ের অংশ হয়ে পেন্সিল কানাডার এই উদ্যোগকে সফল করেছেন।

১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার শিল্পকলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের সবচেয়ে দীর্ঘ আর চমকপ্রদ বর্ষপূর্তির আয়োজন। পেন্সিলে লিখুন, পেন্সিলে থাকুন, পেন্সিলকে ভালোবাসুন।

হ্যাপি পেন্সিলিং!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *