বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্লান্ট

জুলাই ০৬, ২০১৯ বণিকর্বাতা ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চালু হয়েছে। ২০ বছর বয়সী সিরাতুল ইসলাম শুভ নামের এক যুবকের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২৪ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের উদ্যোগে একটি সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময়ই উৎসাহ দিয়েছেন। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার সময় এবং পরবর্তী সময়ে রোগী ও লিভার দাতার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তিনি পোস্ট অপারেটিভ সময়ে রোগী যাতে নিরাপদে ও যত্নে থাকেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান।

তিনি বলেন, গত ২৪ জুন সিরাতুল ইসলাম শুভ’র লিভার ট্রান্সপ্লান্ট অপারেশন করা হয়। তিনি লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। ২০১৭ সালে লিভার সিরোসিস ধরা পড়লে চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চিকিৎসার জন্য লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার মতামত দেন। ২০ বছর বয়সী এ যুবকের মায়ের বয়স ৪৯ বছর। তিনি তার ছেলেকে আংশিক লিভার দানে সম্মত হন। এরপর ১৫ জুন ওই যুবককে হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খানের অধীনে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরো বলেন, গত ২৪ জুন মায়ের কাছ থেকে আংশিক লিভার সংগ্রহ করে তার ছেলের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট দিন ধার্য করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৪ জুন ভোর ৬টা থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। লিভার গ্রহীতার লিভার সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে লিভার দাতার লিভারের ডান অংশ সফলভাবে প্রতিস্থাপিত করা । এই অপারেশন সম্পন্ন করতে মোট ১৬ ঘণ্টা সময় লাগে। আজ শনিবার অপারেশনের ১৪তম দিন। লিভার দাতা সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছেন। উনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। লিভার গ্রহীতাও বর্তমানে সুস্থ আছেন। তার প্রতিস্থাপিত লিভার কাজ শুরু করেছে, তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে।

সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, এ্যানেসথেসিয়া এ্যানালজেসিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরী প্রমুখসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Personel Sağlık