বুক ধড়ফড় করে কেন

পরিশ্রম বা অন্য সাধারণ কারণে সাময়িকভাবে আমাদের হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়, বুক ঢিপ ঢিপ করে বা ধড়ফড় করে। বিশ্রাম নিলে এটি ঠিক হয়ে যায়।

আমাদের হৃদ্‌যন্ত্র একটি নির্দিষ্ট ছন্দে স্পন্দিত হয়। এর নাম হার্ট বিট বা হৃৎস্পন্দন। একজন সুস্থ মানুষের মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার হার্ট বিট হয়। তবে সব সময় যে এ হার একই রকম থাকবে তা নয়। দৈনন্দিন জীবনে নানা পরিস্থিতিতে হার্ট বিট বাড়তে পারে বা বুক ধড়ফড় করতে পারে। আবার কোনো কোনো পরিস্থিতিতে হার্ট বিট কমতেও পারে। কিছু হৃদ্‌রোগ ও অন্য জটিলতায়ও হার্ট বিট এদিক–সেদিক হয়।

হার্ট বিট বাড়ে কেন?
• সাধারণত অতিরিক্ত পরিশ্রম, সিঁড়ি ভাঙা, দৌড়ঝাঁপ, আবেগ–উচ্ছ্বাস, ব্যায়াম, খেলাধুলা, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে হার্ট বিট বেড়ে যায়। কারণ এসব ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়।

• জ্বর, রক্তশূন্যতা, উদ্বেগজনিত সমস্যা (অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার) থাকলে হার্ট বিট বাড়তে পারে। নিকোটিন ও ক্যাফেইন গ্রহণ করলেও বাড়ে।

• ডায়রিয়া, বমি, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে হার্ট বিট দ্রুততর হয়।

• ডায়াবেটিস রোগীর হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে গেলে ঘামের সঙ্গে বুক ধড়ফড় করতে থাকে, অর্থাৎ হার্ট বিট বেড়ে যায়। থাইরয়েড হরমোনের আধিক্যেও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।

• হার্টের নানা জটিলতায় অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন হতে পারে। যেমন হার্টের ভালভের রোগ, জন্মগত হৃদ্‌রোগ, হার্ট ফেইলিউর, এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন ইত্যাদি। অ্যারিদমিয়া বা হৃৎস্পন্দনের সমস্যায় হার্ট বিট বেশি হতে পারে।

• কিছু ওষুধ সাময়িকভাবে হার্ট বিট বাড়ায়। যেমন হাঁপানি রোগে ব্যবহৃত সালবিউটামল, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ অ্যামলোডিপিন ইত্যাদি।

কীভাবে বুঝবেন?
পরিশ্রম বা অন্য সাধারণ কারণে সাময়িকভাবে আমাদের হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়, বুক ঢিপ ঢিপ করে বা ধড়ফড় করে। বিশ্রাম নিলে এটি ঠিক হয়ে যায়। তবে কারও কারও এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কখনো মাথা ঝিমঝিম করতে পারে বা মাথা হালকা বোধ হতে পারে। হয়রান লাগতে পারে। নাড়ির স্পন্দন গুনে বা কখনো স্টেথোস্কোপ দিয়ে হার্ট বিট গুনে নিশ্চিত হওয়া যায়।

কী করবেন?
হার্ট বিট বেড়ে যাওয়ার কারণটি অনুসন্ধান করে তা দূর করাই হলো চিকিৎসা। যেমন হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় দ্রুত চিনির শরবত খেলেই ঠিক হয়ে যায়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তা বন্ধ করা যায় কি না দেখতে হবে। জ্বর বা রক্তশূন্যতা সেরে গেলে হার্ট বিট নিয়মিত হয়ে যায়। তবে এ ধরনের কোনো কারণ না থাকলে পরীক্ষা–নিরীক্ষার দরকার পড়তে পারে। অনেক সময় অতিদ্রুত হার্ট বিট থেকে রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারে, স্ট্রোক হতে পারে। তাই হার্ট বিট দ্রুত বা অনিয়মিত মনে হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Personel Sağlık

- seo -

istanbul avukat