মিলেমিশে পথের মানুষের মুখে হাসি ফোটান তাঁরা

নিজেদের পড়ার খরচ ও নাশতায় বরাদ্দ টাকা থেকে প্রতিদিন পাঁচ টাকা করে সপ্তাহে ৩৫ টাকা জমান তাঁরা। সেই টাকা দিয়ে ফুটপাতে থাকা ছিন্নমূল মানুষের মুখে তুলে দেন খাবার। কখনো তাদের হাতে তুলে দেন শীতের পোশাক বা রেইনকোট। চট্টগ্রামের পটিয়ার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একদল তরুণ-তরুণী এভাবে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। রাস্তাঘাটের মানুষের মুখে হাসি ফোটান তাঁরা। আর ঠিকঠাক কাজটা করতে গড়ে তুলেছেন ‘পথ ফুল’ নামের একটি সংগঠন।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ১৩ অক্টোবর মানবিক সেবামূলক সংগঠন পথ ফুল প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৫৫ জন। সপ্তাহের প্রতি সোমবার তাঁরা নিজেদের জমানো টাকায় পটিয়ার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। ছিন্নমূল মানুষদের তাঁরা মেহমান বলে সম্বোধন করেন।

সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে ছিন্নমূল মানুষদের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তাঁরা। এসবের মধ্যে ছিল চলতি বছর কোরবানের ঈদের তৃতীয় দিন পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় প্রায় সাড়ে চার শ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ, রমজান মাসে ৫৫টি পরিবারে ইফতারসামগ্রী বিতরণ, ৮০ জনের মধ্যে সাহরি বিতরণ, আমেনা বশর পুনর্বাসন কেন্দ্রের (বৃদ্ধাশ্রম) ২৪ জন নারী-পুরুষকে ফল ও দুপুরের খাবার খাওয়ানো ও দুর্গাপূজায় ১৫ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীকে শাড়ি বিতরণ।

খাবার বিতরণ ছাড়াও গত বছর শীতকালে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ২০ জন রিকশাচালককে রেইনকোট বিতরণ করেছেন সংগঠনের সদস্যরা। 

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে প্রধান ইফতেখার বিন আলমগীর বলেন, ‘গত ২০১৮ সালে ১৩ অক্টোবর পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠের গ্যালারিতে বসে আমরা কয়েকজন বন্ধু পথ ফুল নামের সংগঠন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিই। দুস্থ ও ছিন্নমূল লোকজনের পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমাদের লক্ষ্য। ঠিক হয় নিজেদের টাকা দিয়েই সংগঠনের কার্যক্রম চালাব আমরা। তবে এর পাশাপাশি ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও প্রবাসীসহ নয়জনের মতো শুভানুধ্যায়ীও আমাদের সঙ্গে আছেন। প্রতি মাসে তাঁরা ৫ শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেন।’

পটিয়া পৌরসভার মেয়র হারুনুর রশিদ বলেন, বর্তমানে তরুণ সমাজদের মধ্যে অবক্ষয়ের চিত্র দেখে অনেকে হতাশ হন। কিন্তু পটিয়ার পথ ফুলের সদস্যরা ব্যতিক্রম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *