বুয়েটে পড়ব বলে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ অক্টোবর। গত চার বছরে যে চার শিক্ষার্থী বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন—শোয়াইব আহমেদ, মো. আসিফ ইকবাল, কৌশিক রায় ও মেহরাব হক, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে এই পরামর্শগুলো হাজির করেছেন বুয়েটেরই স্নাতকোত্তরের ছাত্র মোস্তফা মনোয়ার

পরীক্ষার আগে
• রুটিন করে পড়ব। এই এক মাসে কখন কী পড়ব, সব ঠিক করে নেব। যখন পদার্থবিজ্ঞান পড়ব, তখন শুধু এই বিষয়েই পড়ে যাব, অন্যগুলো পড়ব না—এমনটা যেন না হয়। তাহলে দেখা যাবে অন্য বিষয়গুলো থেকে দখল চলে যাচ্ছে। তাই সুন্দর করে তিনটা বিষয়ের বিভিন্ন অধ্যায় ভাগ ভাগ করে রুটিন করে পড়ব।

• পরীক্ষার হলে কী করব, সেই পরিকল্পনা আগেই সাজিয়ে ফেলতে হবে। সব মিলিয়ে ৬০টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতি ঘণ্টায় ২০টি করে, সময়ের দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। উত্তর করার জন্য প্রশ্নের নিচে খালি জায়গা পাওয়া যাবে। এক পৃষ্ঠায় তিনটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে, তাই সেই অনুশীলনটা জরুরি। ক্যালকুলেটর, প্রবেশপত্র, কলম—সবকিছু আগে থেকে প্রস্তুত রাখব।

• যত বেশি সম্ভব মডেল টেস্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। কোচিংয়ে বা ঘরে বসে, যেখানেই হোক। যত বেশি পরীক্ষা দেব, তত ভয় দূর হবে। মনে রাখতে হবে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরীক্ষা দেওয়া একটা চর্চার বিষয়।

পরীক্ষার হলে
• যেমনটা প্রস্তুতি নিয়েছ, হুবহু তেমনই প্রশ্ন না-ও আসতে পারে। একটু ঘুরিয়ে প্রশ্ন হতে পারে, চেনা প্রশ্নের সঙ্গে আরও একটু কিছু যোগ হতে পারে। মাথা খাটিয়ে উত্তর করতে হবে।

• গণিত, পদার্থ, রসায়ন—তিন বিষয়ের কোনটা আগে উত্তর করা উচিত, এটা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। কেউ বলে আগে পদার্থ দিয়ে শুরু করো, কেউ বলে আগে গণিত। এসব নিয়ে ভাবার দরকার নেই, যে বিষয়টা সবচেয়ে ভালো পারি, সে বিষয় আগে উত্তর করব।

• কোনো প্রশ্নের উত্তর একদম সরাসরি জানা না থাকলে এক মিনিট সময়ও নষ্ট করব না। পরের প্রশ্নে চলে যাব। যেসব প্রশ্নের উত্তর সরাসরি জানি, সেই সব কটি উত্তর করার পর যদি সময় থাকে, তাহলে আবার ফিরে আসব। অনেকেই একটা প্রশ্নে আটকে গিয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট করে ফেলেন, তাহলে কিন্তু বুয়েটে পড়ার স্বপ্নটা আর পূরণ হবে না।

• প্রস্তুতির তুলনায় প্রশ্ন কঠিন হতেই পারে। তাই বলে পরীক্ষার হলে বসেই আশা ছেড়ে দেব না। যেই প্রশ্নটা আমার জন্য কঠিন, সেটা নিশ্চয়ই অন্যদের জন্যও কঠিন। তাই আমি আমার সেরাটা দেব।

করব না
• একদম নতুন কিছু আর পড়ব না। এত দিন যা পড়া হয়েছে, তা–ই বারবার করে পড়ব। নতুন কিছু পড়লে সেটাও ঠিকঠাক পড়া হবে না, পুরোনো পড়াও গোলমাল লেগে যাবে। কোচিং কিংবা বাজারে পাওয়া যায় এমন সহায়ক বই, প্রশ্ন ব্যাংকে অনেক কঠিন কঠিন প্রশ্ন হয়তো নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। সেগুলো আত্মস্থ করতে গিয়ে মাথা গরম করে ফেললে হবে না।

• বেশি পড়তে গিয়ে খাওয়া-ঘুমে অবহেলা করব না। শেষ এক মাস, অবশ্যই পরিমিত পরিমাণ ঘুমাব, অন্তত দিনে ছয় ঘণ্টা। পরিমিত পরিমাণ বিশ্রাম নেব, খাওয়াদাওয়ার প্রতি যত্ন নেব। অসুস্থ হয়ে গেলে কিন্তু আমও গেল, ছালাও গেল।

• পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা করব না। পড়ার কাজ পড়ে যাব, পরীক্ষাটা পরীক্ষার হলে দেখা যাবে।

স্থাপত্য বিভাগের জন্য
স্থাপত্যে, অর্থাৎ খ বিভাগে যাঁরা ভর্তি হতে চান, তাঁদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বুয়েটের স্থাপত্যের শিক্ষার্থী ফাইজা রাফসান

স্থাপত্যে যে বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসতে পারে সেগুলো হলো ওয়ান পয়েন্ট পার্সপেক্টিভ, টু পয়েন্ট পার্সপেক্টিভ, কম্পোজিশন, হিউম্যান ফিগার ড্রয়িং, লোগো বা পোস্টার ডিজাইন এবং কন্ডিশনাল সিনারি ড্রয়িং। এই বিষয়গুলো ধরে ধরে চর্চা করতে হবে ভালো করে। স্থাপত্যে ভর্তিসহায়ক বইগুলোতে অনুশীলনের জন্য যে প্রশ্নগুলো দেওয়া থাকে, সেগুলো চর্চা করতে হবে বেশি বেশি। লোগো বা পোস্টার ডিজাইনের জন্যে ইন্টারনেট থেকে বেশি বেশি লোগো, পোস্টার দেখে তৈরি হওয়া যেতে পারে। আত্মবিশ্বাস ভালো থাকলে পরীক্ষার হলে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিগগিরই যোগ দেবে আরও অনেক নতুন মুখ। স্বপ্ন নিয়ের অনুরোধে মডেল হয়েছেন মাদেহা, গৌরব, রিফাত, মুরাদ ও অর্পি।  ছবি: খালেদ সরকার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিগগিরই যোগ দেবে আরও অনেক নতুন মুখ। স্বপ্ন নিয়ের অনুরোধে মডেল হয়েছেন মাদেহা, গৌরব, রিফাত, মুরাদ ও অর্পি। ছবি: খালেদ সরকারস্থাপত্য ও প্রকৌশল—দুটোর প্রস্তুতি একসঙ্গে নেওয়ার কৌশল খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটাতে জোর দিতে গিয়ে আরেকটায় অবহেলা করা যাবে না। প্রকৌশলের পরীক্ষা ৬০০ নম্বরের আর স্থাপত্যের পরীক্ষা ৪০০ নম্বরের। কেউ যদি স্থাপত্যে পড়তে যান, তাঁর নম্বর কিন্তু মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যেই হিসাব করা হয়। আর প্রকৌশলের সিলেবাস যেহেতু অনেক বড়, সেটাই বেশি বেশি পড়া উচিত। প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা স্কেচ চর্চা করলেই স্থাপত্যের মোটামুটি একটা ভালো প্রস্তুতি হয়ে যাবে। তবে নিয়মিত চর্চার মধ্যে থাকতে হবে, তা ছাড়া উপায় নেই।

সকালে তিন ঘণ্টার পরীক্ষার পর বিকেলে আবার দুই ঘণ্টার পরীক্ষা, দুটো এক দিনে সামলানো কঠিন। এই ব্যাপারে আমার একমাত্র পরামর্শ হলো, যতটা পারা যায় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। সকালে প্রকৌশলের পরীক্ষা অনেকের একটু খারাপ হতে পারে, বেশি খারাপও হতে পারে। তবে হতাশ হওয়া যাবে না, আশা ছাড়া যাবে না, বরং তখন আরও ভালো করে স্থাপত্যের পরীক্ষা দিতে হবে। হিসাব কিন্তু ওই ১০০০ নম্বরেই হবে।

আবেদন ও পরীক্ষার নিয়ম
ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ৩১ আগস্ট থেকে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আবেদন করার জন্য যেতে হবে বুয়েটের ওয়েবসাইটে:

www.buet.ac.bd

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা দুটো বিভাগে হয়। যাঁরা প্রকৌশলে পড়তে চান, তাঁদের জন্য ‘ক’ বিভাগ। আর ‘খ’ বিভাগ হলো স্থাপত্যে পড়ার আগ্রহ যাঁদের, তাঁদের জন্য। ‘ক’ বিভাগে ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন—তিনটিতে ২০০ নম্বর করে মোট ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা। ‘খ’ বিভাগে এই পরীক্ষার পাশাপাশি ৪০০ নম্বরের ‘ফ্রি হ্যান্ড ড্রয়িং’-এর আলাদা একটি ২ ঘণ্টার পরীক্ষা নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *