স্কুলের টিফিনে দিতে হবে পুষ্টিকর খাবার

স্কুলে থাকতে হয় অনেকটা সময়। ওই সময় পুষ্টি চাহিদার যাতে কোনো ঘাটতি না হয়, তাই স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর টিফিন বাচ্চাদের নিশ্চিত করতে হবে। বাচ্চাদের অনেক ধরনের পছন্দ-অপছন্দ থাকে। তাই মাকে এমনভাবে টিফিন তৈরি করতে হবে, যাতে তা থেকে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি বাচ্চা আনন্দও পায়। খাবার অল্প পরিমাণে দিলেও কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিন—এই তিনটি প্রধান পুষ্টি উপাদান যাতে টিফিনে থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

সঠিক টিফিন নির্বাচনে মাকে যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে:

* সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে তার পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দিয়ে টিফিন মেনু নির্বাচন করতে হবে।

* অল্প পরিমাণে কিন্তু পুষ্টি উপাদান বেশি আছে—এমন খাবার টিফিনে দিন।

* ঝোলজাতীয় খাবার বাচ্চারা অপছন্দ করে, তাই এগুলো এড়িয়ে যান।

* এমন কোনো খাবার দেওয়া যাবে না, যেগুলো ঠান্ডা হলে শক্ত হয়ে যায়।

* খাবারকে সুন্দর করে টিফিন বাক্সে সাজিয়ে দিতে হবে।

* ফুড গ্রেড প্লাস্টিক বা খাবার ভালো থাকবে, এমন বাক্সে খাবার দিতে হবে।

* টিফিনের খাবার নরম ও সতেজ হওয়া জরুরি।

* বাইরের কেনা খাবার টিফিনে না দেওয়াই ভালো।

* যেকোনো টিফিনের সঙ্গে একটু শসা বা শুকনো ফল ইত্যাদি দিলে বাচ্চাদের ফল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে।

* বাচ্চাদের টিফিন খাওয়াকে উৎসাহ দিতে একটু বেশি পরিমাণে টিফিন দিন। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে মাঝেমধ্যে খেলে ভালো।

* যারা দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকে, তাদের অল্প করে দুবার খাওয়ার মতো টিফিন দিলে ভালো।

* শিশুরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে খেতে পারে, তাই ছোট আকারের খাবার টিফিনে দিন।

* ঘরে তৈরি টিফিন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তাই রকমফের করে ঘরের খাবার টিফিনে দিতে হবে।

* বাচ্চাদের টিফিনে ভাজাপোড়া খাবার দিলে লক্ষ রাখতে হবে যেন এসব খাবারে পুরোনো তেল ব্যবহার করা না হয়।

* টিফিনে রং, টেস্টিং সল্ট, কেনা বিস্কুটের গুঁড়া, অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন।

* গরমে খুব দ্রুত নষ্ট হতে পারে—এমন কোনো খাবার টিফিনে দেওয়া যাবে না। যেমন মেয়নিজ, সালাদ ড্রেসিং, আধা সেদ্ধ খাবার, কাঁচা খাবার ইত্যাদি।

টিফিন না খেলে শিশুকে বকা না দিয়ে তার কারণ জানার চেষ্টা করুন। সকালের নাশতা ঠিকমতো খেলেই শিশুরা ভালোভাবে টিফিন খাবে। তাই সকালের নাশতার অভ্যাস শিশুদের করাতে হবে। বাইরের কেনা খাবার শিশুদের নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন মাথাব্যথা, অ্যাসিডিটি, গ্যাস, রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। তাই ঘরের টিফিন শিশুদের জন্য নিরাপদ।

ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর টিফিন

ঘরে তৈরি কেক, প্যানকেক, খিচুড়ি, রুটির সঙ্গে জ্যাম, ডিম আলুর চপ, সবজি কাটলেট, মুরগির কাটলেট, ডিম, মুরগি বা টুনা স্যান্ডউইচ, বুটের হালুয়া বা গাজরের হালুয়া, নুডলস, মাছের কাটলেট, ফ্রেঞ্চ টোস্ট, ঘরে তৈরি ফ্রায়েড রাইস, গ্রিল করা আলু, ফল, বিস্কুট (রকমারি), ঘরের বার্গার, ভেজিটেবল রোল ইত্যাদি।

মনে রাখবেন, ৩০ দিনের মধ্যে ২৪ দিনই শিশুকে টিফিন দিতে হবে। তাই মাসের শুরুতেই একটি রুটিন করলে আপনিও ঝামেলায় কম পড়বেন এবং শিশুটিও রকমফের খাবার উপভোগ করতে পারবে।

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ, অ্যাপোলো হাসপাতাল, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Personel Sağlık

- seo -

istanbul avukat